One Nation one election : কেন্দ্রের সবুজ সংকেত: ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ প্রস্তাবে অনুমোদন দিল ইউনিয়ন ক্যাবিনেট
নয়াদিল্লি:
দেশজুড়ে একইসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন করানোর লক্ষ্যে বহুদিন ধরেই আলোচনায় থাকা ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ (One Nation One Election) প্রস্তাবে অবশেষে নীতিগত অনুমোদন দিল কেন্দ্রের ইউনিয়ন ক্যাবিনেট। বুধবার ক্যাবিনেট বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার ফলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হলো।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে লোকসভা এবং সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রের দাবি, এতে একদিকে যেমন নির্বাচনী খরচ কমবে, তেমনই প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আসবে।
‘এক দেশ এক নির্বাচন’ বলতে কী বোঝায়?
‘এক দেশ এক নির্বাচন’ মূলত এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রের নির্বাচন একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা আলাদা সময়ে নির্বাচন হওয়ায় বারবার আদর্শ আচরণবিধি জারি হয়, যার ফলে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হয়—এমনটাই কেন্দ্রের বক্তব্য।
সরকার মনে করছে, একসঙ্গে নির্বাচন হলে:
- প্রশাসনের উপর চাপ কমবে
- নির্বাচনী ব্যয় অনেকটাই হ্রাস পাবে
- উন্নয়ন প্রকল্পে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে
এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে কমিটির নেতৃত্বে।সেই কমিটি প্রস্তাবের গ্রহণ করেছে।
কেন এত বিতর্ক এই প্রস্তাব ঘিরে?
এই প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র মতভেদ রয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশের অভিযোগ, একসঙ্গে নির্বাচন হলে আঞ্চলিক ও স্থানীয় ইস্যুগুলি চাপা পড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হওয়ায় রাজ্যগুলির সম্মতি কতটা পাওয়া যাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু করতে গেলে:
- সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদ
- সংশোধনরাজ্য সরকারের মেয়াদ
- পুনর্গঠনজরুরি অবস্থায় বিধানসভা ভেঙে গেলে কী হবে, তার স্পষ্ট রূপরেখাএই সব বিষয় পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি।

দেশের নির্বাচনে যে অর্থবায় এবং সময় সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ কেন্দ্রীয় সরকারের। এই বিল লোক সভায় পাস হলে দেশে দুটি আলাদা নির্বাচন নয় একটি নির্বাচন হবে অভিন্ন নির্বাচনের জন্য এই বিল আনা হয়েছে।
এই বিল সংসদে পেশ আগে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে সেপ্টেম্বর মাসে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। চলতি বছরে শীতকালীন অধিবেশনে এই বিল পেশ করা হতে পারে।
যে সময় এই বিল রামনাথ কোবিন্দ কাছে পাঠানো হয়েছিলো সেই কমিটি তখন কথা বলেছিল 62 টি রাজনৈতিক দলের সাথেে। সেই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে 32 টি রাজনৈতিক দল এই বিল কে সমর্থন করলেও 15 টি রাজনৈতিক দল তাদের জবাব জানায়নি।
এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চেষ্টা করছেন তিনি জানিয়েছিলেন সরকারের তিন-চার মাসের জন্য নির্বাচন হতে হবে সম্পুর্ন টার্ম রাজনীতি করা উচিত নয়। এতে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় কমবে।’
সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
সরকারের যুক্তি অনুযায়ী, একসঙ্গে নির্বাচন হলে সাধারণ মানুষকে বারবার ভোট দিতে যেতে হবে না। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে একটানা সরকার ক্ষমতায় থাকলে জনমতের প্রতিফলন কম হতে পারে।
এছাড়া একসঙ্গে নির্বাচন হলে জাতীয় ইস্যু প্রাধান্য পাবে, রাজ্যভিত্তিক সমস্যাগুলি গুরুত্ব হারাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপ কী?
ইউনিয়ন ক্যাবিনেটের অনুমোদনের পর এই প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে সংসদে বিল পেশ করতে হবে। প্রয়োজন পড়লে রাজ্যগুলির সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা হবে। সব রাজ্যের সম্মতি এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এই প্রস্তাব বাস্তব রূপ পেতে পারে।বর্তমানে স্পষ্ট যে, ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে চলেছে।

Argha Bhattacharyya is the founder, writer, and editor of 12NewsWorld.com.
With a strong passion for journalism and public affairs, Argha focuses on covering local political news
